Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনার রূপসা ঘাটে যাত্রীদের ভোগান্তি, ফেরি চালুর দাবি

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার গুরুত্বপূর্ণ রূপসা ঘাটে চলছে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও যাত্রী হয়রানির চিত্র। প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ঘাটজুড়ে চলছে বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত টোল আদায় এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে যাত্রীপ্রতি টোল ছিল ১ টাকা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে আদায় করা হচ্ছে ২ টাকা। শুধু যাত্রী নয়, তাদের হাতে থাকা মালামালের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে জোরপূর্বক। অনেক ক্ষেত্রে ৪ টাকার মালামালের জন্য ৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এভাবে টোল আদায়ে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়োগ করা হয়েছে, যারা অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকিমূলক আচরণ করছে।

ঘাটের অবকাঠামোগত অবস্থাও করুণ। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংওয়ের কোনো সংস্কার না হওয়ায় তা এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে ট্রলার চালকেরা নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত যাত্রী তোলে এবং অনেক সময় যাত্রীদের সামনে অশালীন ভাষায় কথা বলে। সন্ধ্যার পর চালকদের মধ্যে অনেকেই মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা, যা যাত্রী নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ছাত্র, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকেই বেশি টার্গেট করে হয়রানি করা হয়। অথচ রূপসা উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিয়মিত এই ঘাট ব্যবহার করলেও, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী ও যাত্রীরা দ্রুত ঘাটে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের জন্য ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন, নাগরিক ফোরাম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবিগুলো জানিয়ে আসা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘাটের ম্যানেজার মো. জাহিদুর রহমান। তিনি জানান, ঘাট সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়েছে এবং টোল আদায়ের বিষয়েও যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজ চলছে।

ঘাটের মালিকানা নিয়ে রয়েছে জটিলতা। সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং জেলা পরিষদের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব, যা একাধিক মামলার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেসিসি থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র হাতে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়। এরপর যাত্রীপ্রতি টোল দ্বিগুণ করে দুই টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে আশানুরূপ রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। যেখানে কেসিসি মাসে গড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি টোল আদায় করত, সেখানে বিআইডব্লিউটিএ’র আয় নেমে এসেছে গড়ে দুই লাখ টাকায়।

বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ জানান, দখল পাল্টা দখল এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আইন বিভাগকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ঘাট ইজারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ঘাটটি টোলমুক্ত করে আবারও সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য উন্মুক্ত করা যায়।

রূপসা ঘাটকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুর্নীতির চিত্র বদলাতে হলে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।