দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দুমকীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে (১২) অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরটির হাত-পা বেঁধে উল্টো করে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিযুক্তরা।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পঞ্চায়েত বাজার ব্রিজসংলগ্ন চরবয়েড়া গ্রামের একটি মুদি দোকানে।
নির্যাতনের বিবরণ ও স্থানীয়দের ভাষ্য
২ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, লুঙ্গি, গেঞ্জি ও টুপি পরিহিত এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই কিশোরকে নির্দয়ভাবে মারধর করছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, চরবয়েড়া গ্রামের জলিল সিকদারের মুদি দোকান থেকে নগদ টাকা চুরির অভিযোগে কিশোরটিকে প্রথমে আটক করা হয়। এরপর তাকে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক নির্যাতন করা হয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
কিশোরটির বাবার বাড়ি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে হলেও সে পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুর ইউনিয়নে নানা বাড়িতে বসবাস করত। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ওই কিশোরের বিরুদ্ধে দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন বাড়িতে হাঁস-মুরগি চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
দোকান মালিকের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
তবে অভিযুক্ত দোকান মালিক জলিল সিকদার মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “ওই কিশোর দোকানে ঢুকে এ যাবত লক্ষাধিক টাকা চুরি করেছে। নগদ প্রায় ২৫ হাজার টাকা চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। তার সঙ্গে থাকা আরও একজন সহযোগী (১৪) পালিয়ে যায়। আমি শুধু তাকে বেঁধে ওর বাবাকে খবর দিয়েছিলাম।”
এ বিষয়ে দুমকি থানার এসআই নুরুজ্জামান বলেন, “আটক কিশোরের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতনের বিষয়টি নিয়েও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহলের দাবি আইন হাতে তুলে নিয়ে এভাবে একজন কিশোরকে নির্যাতন করার ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, কিশোর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও কাউকে এভাবে অমানবিক নির্যাতন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এই বিষয়ে সর্বশেষ তথ্যের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।

