ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ-এ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এবার এনসিপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে ছাত্রদল।
শনিবার ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবির।
মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, লাবাবুল বাশার লাবু, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান, হৃদয়, রুবায়েত হাসান তুর্য, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে বাদী মো. এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌর এলাকার পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন।
বাদীর অভিযোগ, বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয়। এ সময় প্রতিবাদ জানালে তারেক রেজার নির্দেশে এনসিপি নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীকে মারধর করে। একপর্যায়ে তানাঈম নামে এক আসামি ইট দিয়ে এনামুল কবিরের মাথায় আঘাত করলে তার কপাল ফেটে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটল।

