শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বয়স্ক ও অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করে তিন পুত্রবধূ অর্জন করেছেন ‘শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬’। পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা পাওয়া তিন নারী হলেন—মোছা. সহিতুন নেছা, নাসিমা আখতার ডলি এবং ফেরদৌসী বেগম। সহিতুন নেছা গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মরহুম সাত্তার শেখের স্ত্রী, নাসিমা আখতার ডলি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এলাকার মরহুম ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী এবং ফেরদৌসী বেগম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বদিউজ্জামাল বেপারীপাড়ার সেলিম মিয়ার স্ত্রী।
“নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন” স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা সভাকক্ষে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনের উপদেষ্টা কে. মোহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সাথী দাস বলেন, “একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে পুত্রবধূদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।”
তিনি সম্মাননা পাওয়া তিন নারীকে অভিনন্দন জানান এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আবু সাঈদ মণ্ডল বলেন, সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ ও মানবিক সম্পর্ক জোরদারে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি যত্ন ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সম্মাননা অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।

