স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরদিঘলিয়া গ্রামে স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসীকে (৩৬) হত্যার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে তাকে আটক করা হয়।
আটক লিমন মল্লিক চরদিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তিনি লিমনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সকাল ১০টার দিকে সুমনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে তার মরদেহ ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চলে যান লিমন।
বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে এসে লিমন চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন। লিমনের এটি দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে লিমন নিজ গ্রাম চরদিঘলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
বর্তমানে লিমন স্থানীয়ভাবে একটি চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কাঠকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

