দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বৈরাগীরচর এলাকার ইন্তাজ আলী (৫৩), চককৃষ্ণপুর গ্রামের আল আমিন (২১), তাইবা (১০), লিপিয়ারা খাতুন (২২), মাসেদা খাতুন (৩৬), বিথী খাতুন (২৬), বিলকিস আরা (৪৯) এবং সিয়াম (১২)।
রোববার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামের ডীপপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় সিয়াম। রাতেই তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর পরদিন সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে একই গ্রামের তিন নারী—মাসেদা খাতুন, বিথী খাতুন ও বিলকিস আরাকে সাপে কামড় দেয়। তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মাঠ, ফসলি জমি এবং বাড়ির আশপাশে সাপের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন মানুষ।
সাপে কামড়ে আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় হঠাৎ পায়ে কামড় অনুভব করেন। পরে স্থানীয়রা সাপের কামড় বলে সন্দেহ করলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, “গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট ৮ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

