রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন গণজাগরণের প্রয়োজন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন জাতীয় দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য নিয়ে নয়; বরং স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়ার জন্য এ আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজই পরিবর্তনের মূল শক্তি। শোষণ, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালিত হয়নি। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলবে।
সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্যের কাছে নত না হয়ে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে জনগণ সচেতন। সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

