মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির এক নেতাকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অটোরিকশা মালিক সমিতির সদস্যরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানো ও মহাসড়কে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ নিয়ম বাস্তবায়নে ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসমালিক গ্রুপের পক্ষে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের দিয়ে একটি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অতীতেও বাসশ্রমিক ও অটোরিকশা মালিক সমিতির সদস্যদের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির মান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল করা হলেও বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সড়কে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা তাকে মারধর করেন। এর প্রতিবাদেই সমিতির সদস্যরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি আল মামুন বলেন, মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা প্রায়ই অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং স্থানীয় সড়কে যাত্রী তোলার ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে বাধা দেন। সাধারণ সম্পাদককে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের মান্দা শাখার সহ-সভাপতি রুকনুজ্জামান গামা বলেন, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কের অবরোধ তুলে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

