রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলেও দুপুর ও রাতের বিশ্রামের সময় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (যপবিস-২) ১৯৮১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে একটি সদর দপ্তর, পাঁচটি জোনাল অফিস, তিনটি সাব-জোনাল অফিস এবং ২৯টি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেবা প্রদান করছে। সমিতির আওতায় বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার ৭০৭ জন।
এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. হাদীউজ্জামান বলেন, “আমাদের সমিতির আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে ১১৫ থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিংও কমে আসবে।
এদিকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন মনিরামপুর উপজেলার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের মতে, গরমের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

