নোয়াখালী প্রতিনিধি
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর উদ্যোগে নোয়াখালীতে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি র্যালি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক আমার দেশ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ও অধিকার-এর ডিফেন্ডার আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, বি. ইউ. এম. কামরুল ইসলাম, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলী খান, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ কামরুল, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি মানিক ভূঁইয়া, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক চলতিধারা সম্পাদক এম. বি. আলম এবং দৈনিক দিশারী সম্পাদক আকাশ মো. জসিমসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, অতীতে রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে বিরোধী মতাবলম্বী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতন, গুম, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সুরক্ষায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আলোচকরা আরও বলেন, প্রতি বছর ২৬ জুন ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশন গ্রহণ করে। ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন কনভেনশনটি কার্যকর হয় এবং পরবর্তীতে দিনটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রণীত নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে। কনভেনশন অনুমোদনকারী রাষ্ট্রগুলো জাতীয় আইনে নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার রক্ষা এবং নির্যাতনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

