মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যশোরের মনিরামপুরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের মাঝে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, সার এবং বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি।
কৃষি বিভাগ জানায়, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৮৮০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৩৩ শতাংশ জমিতে চাষের উপযোগী উফশী রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৮৩০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং ২৫০টি লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। পাঁচটি লেবুর চারার সঙ্গে কৃষকদের ৪০ কেজি ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সারও দেওয়া হয়, যাতে চারাগুলো সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সরকারের এ প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির সুফল প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। বীজ ও সার বিতরণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শাহনাজ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া হোসেন, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ঘোষ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাশ, মোজাফফর হোসেন, অচিন্ত্য ভৌমিক, হিরামন সরকার, হাফিজুর রহমান এবং সফল কৃষক প্রতিনিধি খলিলুর রহমান।
প্রণোদনার বীজ, সার ও গাছের চারা পেয়ে হাকোবা গ্রামের কৃষক আজগর আলী বলেন, সরকারের এই সহায়তা ছোট কৃষকদের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভবিষ্যতে গাছগুলো থেকেও পরিবার উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কৃষকদের হাতে বীজ, সার ও গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।

