দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি, ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ এবং মামলার ৩ নম্বর আসামি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার দুই আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৯ মে হাইকোর্ট খাজা আহমেদ ও আসাদুজ্জামান আসাদকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে শতাধিক ব্যক্তি পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার পাশাপাশি দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার তিন দিন পর, ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এজাহারে খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। অপর নামীয় আসামিরা হলেন আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজিব মিস্ত্রি ও সিহাব উদ্দিন ওরফে সাফি। এর মধ্যে রাজিব মিস্ত্রি র্যাবের অভিযানে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার হন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, উসকানি এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন বলেন, আদালত খাজা আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জেনেছি। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

