ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের যুবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় চার মাস আগের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় একপর্যায়ে পুরো এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “সহিংসতা বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

