নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর পোরশা উপজেলার কাতকইল দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্টের হাজিরা খাতার স্বাক্ষর ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত (অ্যাডহক) কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল বারী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আব্দুল বারী বলেন, ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ও আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ মার্চ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড তাঁকে সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আবারও আইনি প্রক্রিয়া চললেও চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টে করা আপিল খারিজ হলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। আদালতের নির্দেশনা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার লিখিত অনুমতির ভিত্তিতে তিনি গত ৩০ এপ্রিল মাদ্রাসায় যোগদান করেন এবং ২৯ জুন পর্যন্ত হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুন মাদ্রাসা ছুটির পর অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান হাজিরা খাতা নিয়ে প্রায় দুই মাসের স্বাক্ষর ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেন এবং পরে নতুন হাজিরা খাতা চালু করেন।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান হাজিরা খাতায় ফ্লুইড ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। হাজিরা খাতার স্বাক্ষর মুছে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই এবং পরে বিষয়টি জানাবেন। এরপর তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ভুক্তভোগী সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল বারীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্ররোচনায় সভাপতি বিধিবহির্ভূতভাবে তাঁর স্বাক্ষর মুছে দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামসুল আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

