পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তী ওরফে মণি হত্যা মামলার ছয় মাস পার হলেও প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের উপস্থিতির দাবি করা হলেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে শরৎ চক্রবর্তী ওরফে মণিকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি চরসিন্দুর বাজারে বাবার মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি এক্সকাভেটর ভাড়ার ব্যবসাও করতেন। ঘটনার দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে শুটারের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ভাই রনি চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে ব্যবসায়িক অংশীদার রাজেন্দ্র চৌহান রাজু, সৌমা চৌহান, সাগর চৌহান ও শ্যামল চৌহানকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার পরদিন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই রাজেন্দ্র চৌহান নিহতের বাবাকে নিয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। পরে আলামত নষ্টের চেষ্টা ও ব্যবসায়িক হিসাব নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তারা নতুন মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, “ছয় মাস ধরে আমরা বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। কিন্তু তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখছি না। আমাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”
নিহতের স্ত্রী অন্তরা মুখার্জি ও বাবা মদন চক্রবর্তী বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে শুটার দেখা যাওয়ার পরও তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রধান আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। আমরা শুধু এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
নিহতের মা গঙ্গা রানী চক্রবর্তী ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কারও ক্ষতি করেনি। কেন তাকে হত্যা করা হলো? আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।”
চরসিন্দুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “শরৎ খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে ছিল। তার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে পলাশ থানার তদন্ত কর্মকর্তা কুতুবুল আলম বলেন, “মামলায় তদন্ত চলাকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি রাজেন্দ্র চৌহান রাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মণি আমার বন্ধু ছিল। কেন আমাকে আসামি করা হয়েছে, তা আমি জানি না।”
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে দীর্ঘ সময়েও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

