নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ ২৯ বছর শিক্ষকতা এবং মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ বি এম আব্দুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসার এবতেদায়ি শাখায় সহকারী মৌলভী হিসেবে যোগদান করেন। পরে একই বছরের ৩ জুলাই মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে আলিম শাখায় আরবি প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, নওগাঁ সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালে আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার সনদ যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বোর্ড থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, তার দাখিল ও আলিম সনদ বোর্ড থেকে ইস্যু করা হয়নি। অভিযোগে দাবি করা হয়, ১৯৮১ সালের দাখিল এবং ১৯৮৩ সালের আলিম পরীক্ষার যে রোল ও নিবন্ধন নম্বর তিনি ব্যবহার করেছেন, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে ইমান ফকর উদ্দীন নামে অন্য এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, এ বি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বি এম আব্দুল কাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সনদসংক্রান্ত বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং তিনি তদন্ত কমিটি ও আদালতেই এ বিষয়ে জবাব দেবেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতা করার পাশাপাশি কাজীর দায়িত্ব পালন করা আইনত নিষিদ্ধ—এমন কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, “চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

