আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক নারীকে বোন পরিচয়ে হাজির করে প্রতারণার মাধ্যমে ওয়ারিশি জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বলে দাবি করা ফাতেমা তুন আঁখি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বেলুহার মৌজার ১৬৪ ও ২৬৫ নম্বর খতিয়ানের ১২টি দাগে মোট ২২ শতাংশ জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক তিনি ও তাঁর বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজ।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ফাতেমা তুন আঁখি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুযোগে তাঁর ভাই গত ২৩ জুলাই অন্য এক নারীকে তাঁর পরিচয়ে হাজির করে জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেলুহার গ্রামের রোজিনা বেগমের কাছে জমি বিক্রি করেন। এ ঘটনায় দলিল বাতিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও দলিল লেখকের কাছে একাধিকবার গেলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে প্রতারণার মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জমির ক্রেতা রোজিনা বেগম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই তিনি জমিটি কিনেছিলেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কলাপাড়া থানায় মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাঁর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্য কাউকে বোন পরিচয়ে আনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো জানা নেই।
আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রার জহিরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে দলিল লেখক শহিদুল ইসলামের দলিল লেখার কাজ মৌখিকভাবে সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কথা জানালে জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে দলিলটি নিবন্ধন করা হয়।
তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান যুবরাজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

