বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ‘সন্ত্রাস রুখতে ছাত্র-শিক্ষক সংহতি’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেইট সংলগ্ন কদমতলায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে লেজুরবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালে বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এখন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। তিনি ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে ক্লাসে ফিরে এসে সাংস্কৃতিক ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান।
হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ইহসান এলাহী সাবিক বলেন, আইন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষকদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংহতি জানানো দায়িত্বের অংশ। বুটেক্সকে সন্ত্রাস, হল দখল ও নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মুহা. ওসমান মাহদী বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের পিতার সমতুল্য। তারা আমাদের পাশে দাঁড়ানোয় আমরা বুঝতে পারছি, আমরা সঠিক দাবির পক্ষেই আছি।’ তিনি হামলায় জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। পরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রদক্ষিণ করেন তারা।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ৬ আগস্ট বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

