কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার করইশ গ্রামে অভিনব কায়দায় বাসায় ঢুকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তাঁতীবাজার থেকে চুরি হওয়া ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন কুমিল্লার হোমনা থানার নিকলি ইউনিয়নের মৃত আকবর আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম (৫০) এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা এলাকার বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন ২০২৬ কচুয়া পৌরসভাস্থ ওয়ালটন প্লাজার পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা করইশ গ্রামের মৃত ডাক্তার ফজর আলীর ছেলে মোহাম্মাদ নুরুল ইসলামের (৪৮) বাসায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে প্রবেশ করে।
একপর্যায়ে গৃহবধূর সঙ্গে কথাবার্তার সুযোগে চক্রের সদস্যরা খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে আলমারিতে থাকা ৬ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা, এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-৫৮। ঘটনার পর চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কচুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুবেল সরকার ও এসআই রুহুল আমিনের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
পরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে ইব্রাহিমকে এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে চুরি হওয়া ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

