Nabadhara
ঢাকারবিবার , ২৩ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গৌরনদী টিটিসির ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন, অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৬:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ভর্তি কার্যক্রম, আবাসিক কক্ষ ব্যবহার করে রাতযাপন করেও বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ, প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা না দেওয়া, কেন্দ্রের ভেতর থেকে বাইরে খাবার সরবরাহ, দায়িত্ব বণ্টন এবং হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনসহ নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, টিটিসির অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন ও অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বা ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ না করেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষ আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী টিটিসির অভ্যন্তরে বসবাস করলেও তারা নিয়মিত বাড়িভাড়া ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন টিটিসির ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। এ কারণে তারা সেখানে থাকছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, টিটিসিতে অনলাইনে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণার্থীদের কেন্দ্রের সামনে থাকা একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার দোকানে পাঠানো হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের ওই দোকানে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভর্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকার সাইদুল ইসলাম নামে এক বিদেশগামী ব্যক্তি গত ১৭ আগস্ট প্রশিক্ষণের জন্য টিটিসিতে ভর্তি হতে আসেন। তিনি কেন্দ্রের তৃতীয় তলা থেকে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন কেন্দ্রের কর্মরত আব্দুল কাদেরকে ভবিষ্যতে এভাবে কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভর্তি কার্যক্রম না করার জন্য সতর্ক করেন।

ভর্তি খরচ সম্পর্কে টিটিসির সামনে থাকা কম্পিউটার দোকানের পরিচালক মো. আমিন খান বলেন, প্রশিক্ষণে ছেলেদের ভর্তি করতে ৬৫০ টাকা খরচ হয়। আর নারীদের ভর্তি করতে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়।

নারীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও টিটিসির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিন বলেন, কেন্দ্রে নারীদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তবে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, হাউসকিপিং ছাড়া কেন্দ্রের অন্যান্য চালু প্রশিক্ষণগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

টিটিসির অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রান্না করা খাবার বাইরে সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জামিলা বেগম নামের এক নারী টিটিসির ভেতর থেকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার নিয়ে কেন্দ্রের সামনের সুজন ফকিরের দোকানে পৌঁছে দেন।

দোকান মালিক সুজন ফকির বলেন, ওই খাবার তার জন্য নয়। আমিন খান টিটিসিতে মেস হিসেবে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ দিয়ে তিন বেলা খাবার খান। আমিন খান অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের আপন ভাই। তিনি আগে টিটিসিতে কর্মরত ছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে বর্তমানে কম্পিউটারের দোকান দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, আল-আমিনের ভাইয়ের দোকানে কেন্দ্রের ভেতর থেকে খাবার দিতে তিনি আগে থেকেই নিষেধ করেছেন। এরপরও খাবার দেওয়া হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে টিটিসির ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের বিষয়টি তেমন কোনো সমস্যা নয়। এতে সরকারের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

টিটিসির পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী লিমন ফকিরসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পার হলেও তারা এখনো বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা পাননি। লিমন ফকির জানান, ভাতার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার তাদের কথাকাটাকাটি হয়েছে।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী জসিম মোল্লা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের কথায় তিনি তার শ্যালককে টিটিসিতে কাজে দিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস কাজ করার পর তার বেতনের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা আল-আমিন আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে আল-আমিন বাকি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন বলে দাবি জসিমের।

টিটিসিতে কর্মরত না থাকার পরও জামিলা বেগমের কাছে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবি থাকা এবং তাকে কেন্দ্রের একটি কক্ষে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জামিলা বেগম বলেন, কেয়ারটেকার দেলোয়ার সকালে দেরিতে ওঠেন। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু চাবি তার কাছে রাখা হয়েছে। আর অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে রাতযাপন করছেন।

অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, “তার চাকরি নেই। তিনি যে প্রকল্পে কাজ করতেন, সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

টিটিসিতে নাইটগার্ড ও কেয়ারটেকার থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চাবি কার কাছে থাকে, তা নিয়েও ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কেয়ারটেকার দেলোয়ার হোসেন জানান, চাবি অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের কাছে থাকে। অন্যদিকে আল-আমিনের সঙ্গে কেয়ারটেকারের ফোনালাপে আল-আমিনকে বলতে শোনা যায়, চাবি জামিলা খালার কাছে রয়েছে।

জামিলা বেগমের পারিবারিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তার সৎ ছেলে রুহুল আমিন দাবি করেন, জামিলা তার অসুস্থ বাবার সঙ্গে থাকেন না। পাশাপাশি টিটিসির ভেতরে আল-আমিনের সঙ্গে জামিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আল-আমিন ও জামিলা বেগম।

অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুনও জামিলা বেগমের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

গৌরনদী টিটিসির মতো একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম, প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, খাবার সরবরাহ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশিক্ষণার্থীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।