রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কাজ শুরুর প্রায় আড়াই বছর পার হলেও যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পাঁচকাটিয়া সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। বরং এখনো অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি। সেতুর বিকল্প কোনো রাস্তাও তৈরি না করায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ‘ইকবাল সমাদ্দার’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতু নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৮ টাকা। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ৮১৬ পয়সা।
১১ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার শর্তে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়ার পর দুই বছর চার মাস পার হলেও সেতুর দুই পাশে চারটি পিলার ও সংযোগ দেয়াল নির্মাণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি। ফলে প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা জানান, সেতু নির্মাণের জন্য মূল সড়ক বন্ধ থাকায় তাদের বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্কুলছাত্র অপু বিশ্বাস ও আকাশ মণ্ডল জানায়, অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে ভিজে স্কুলে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ মণ্ডল, দেবব্রত বালা, সুকৃতি বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতার অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখা হলেও শুষ্ক মৌসুমেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কাজ করেনি। তাদের দাবি, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে চুকনগর হয়ে মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ চলাচল করেন।
ঠিকাদার আব্দুল খালেক বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।”
সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, “কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজটি শেষ হয়নি।”
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতু নির্মাণকাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

