সামসুল হক জুয়েল, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কুড়ালের কোপে আব্দুল মজিদ মোড়ল (৭০) নামে এক কলা ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর জামাই মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের (৩৫) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত জামাই।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জামালপুর বাজারের ভাঙারি পট্টি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে জামালপুর এলাকার কলা ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারা বেগমের (২৮) সঙ্গে একই এলাকার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য মোজাম্মেল তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। কলা বিক্রি করে সংসার চালানো আব্দুল মজিদের পক্ষে জামাইয়ের সব দাবি পূরণ করা সম্ভব হতো না। এ নিয়ে প্রায়ই শাহানারা বেগমকে মারধর করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
প্রায় ১৫ দিন আগে মোজাম্মেল তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর থেকে শাহানারা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। স্বামীর নির্যাতনের কারণে তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরবেন না বলেও পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে রওনা হন মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ভাঙারি পট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে দিয়ে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধারালো কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেন মোজাম্মেল। এতে গুরুতর আহত হন মজিদ মোড়ল।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক সুরতহাল শেষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার নম্বর ২৪(৮)২৬।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। পরে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত মোজাম্মেল হককে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

