মাছুম বিল্লাহ জুয়েল কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় স্ত্রীর ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী পলাশের সাথে বাক বিতান্ডার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত স্ত্রী লিজার হাতুড়ির আঘাতে স্বামী নিহত হয়েছে। নিহত খায়রুল ইসলাম পলাশের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে তাদের জায়ান (৪) বছর ও রুকাইয়া দুই মাস বয়সের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
শুক্রবার পুলিশ ইসরাত জাহান লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় লিজার কোলে দুই মাসের রুকাইয়া ও চার বছরের জায়ানকে দেখা গেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে প্রধান ও অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে কাঠালিয়া থানায় পলাশের চাচাতো ভাই মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ আউড়া গ্রামে পলাশের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত খাইরুল ইসলাম পলাশ পেশায় একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামে। কিছুদিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান লিজাকে নিয়ে কাঠালিয়া উপজেলা সদরে দক্ষিণ আউড়া গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন এবং বাসস্ট্যান্ডে একটি ফার্মেসি ব্যবসা চালু করেন। অনেক দিন যাবত পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। স্বামী পলাশকে না জানিয়ে স্ত্রী লিজা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ঋণ গ্রহণ করে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহসপতিবার লিজা ও পলাশের মধ্যে কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ লিজা প্রথমে হাতুড়ি ও পরে শাবল দিয়ে পলাশকে গুরুতর জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশালের শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায় পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ১১ টায় ঝালকাঠি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেন।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, ইসরাত জাহান লিজাকে গ্রেফতার করে ঝালকাঠি কোটে প্রেরণ করা হয়েছে। তার সাথে দুটি অবুঝ কন্যা সন্তান রয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

