Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী অর্ধলাখ মানুষ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট। ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নৌকা ও ডিঙিই এখন অনেক এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

বন্যাকবলিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। তাঁদের দাবি, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উজানের পানি ও বৃষ্টির পানি একসঙ্গে নামায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চরাঞ্চলের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পুরো ইউনিয়নের মানুষ অনেকটা পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, বন্যার কারণে ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ইউনিয়নের আরও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচলের প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে ডিঙি ও ছোট নৌকা। গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে থাকা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুশতাক আহমেদ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহমেদ বলেন, চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাউদ্দৌলা বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মার পানি বেড়েছে। প্রতিবছরই দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বর্তমানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার এবং নদীর পানি ১৩ মিটারের আশপাশে রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বন্যাকবলিত মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়তে থাকায় তাঁরা ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।