শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
অসহায় ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে বই-খাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। পাশাপাশি সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে নিয়মিত লিখতেন পত্রিকার পাতায়। নাটক লিখে নিজের অর্থায়নে মঞ্চায়নও করেছেন। সেই লেখক ও সমাজসেবী জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল এখন অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল গত ছয় মাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। স্ট্রোকের পর তাঁর শরীরের একপাশ অবশ হয়ে গেছে। বিছানা থেকে উঠতেও পারছেন না তিনি। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
একসময় জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল পেশায় দর্জির কাজ করতেন। সেই কাজ থেকে যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি ও সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন। গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকও রচনা করেছেন। নিজের অর্থায়নে সেসব নাটক মঞ্চায়নও করেছেন তিনি।
সমাজের নানা কাজে দীর্ঘদিন অবদান রাখা এই মানুষটি এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে অসহায় জীবনযাপন করছেন। তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চিতলমারীর ‘অন্তরালে’ পত্রিকার সম্পাদক মো. একরামুল হক মুন্সী বলেন, ‘জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল একজন ভালো মানুষ। প্রচণ্ড আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি সমাজের জন্য অনেক কাজ করেছেন। প্রতিবছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতেন। পাশাপাশি নাটক লিখে সেগুলো মঞ্চায়ন করেছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, জুড়ান মণ্ডলের অসুস্থতার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন।

