শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
চিত্রা নদীর দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বনকে ঘিরে এলাকাটি পরিচিতি পেয়েছে ‘চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবন’ নামে। কৃষিকাজ ও মাছ চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নদীতে এবার খাঁচায় মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা। ভিন্নধর্মী এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহও বাড়ছে নদীতীরবর্তী মানুষের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। নদীর অপর পাড়ে ফকিরহাট উপজেলা। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষিজমিতে চিংড়ি ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করা হয়। পাশাপাশি মৎস্য অফিসের উদ্যোগে চিত্রা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে নদীতে বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিতলমারীর গোয়ালবাড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস চিত্রা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে স্থানীয়দের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছের পাশাপাশি বিদেশি জাতের তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন। নদীতে ড্রামের সঙ্গে নেট দিয়ে খাঁচা তৈরি করে এসব মাছ চাষ করা হচ্ছে।
গোপাল বিশ্বাস জানান, ফকিরহাট মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে তিনি চিত্রা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেছেন। নিয়মিত মাছের খাবার দেওয়া ও পরিচর্যা করছেন। বিশেষ করে রঙিন মাছের চাহিদা রয়েছে। অনেকে অ্যাকুরিয়ামে রাখার জন্য তার কাছ থেকে রঙিন মাছ কিনছেন। তিনি স্বল্পমূল্যে এসব মাছ সরবরাহ করছেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ১০টি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেছেন। নদীতে জোয়ার-ভাটা থাকায় পানি পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে, ফলে পানি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম। সঠিকভাবে খাবার ও পরিচর্যা করতে পারলে এ পদ্ধতিতে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় মাছচাষি নন্দ রায় বলেন, “গোপাল বিশ্বাস ভিন্ন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে অনেককে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। যাদের নিজস্ব জমি নেই, তারাও এভাবে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে লাভবান হতে পারেন। এর মাধ্যমে অনেকের বেকারত্বও দূর হতে পারে।”
চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী বলেন, “খাঁচায় মাছ চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য এটি মাছ চাষের একটি সুযোগ। অনেক উপজেলায় মৎস্য অফিসের সহযোগিতায় খাঁচায় মাছ চাষের প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে।”

