মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ী (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদে চাকরি করা এবং এনজিও কর্মী পরিচয়ে ঘর দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মদন উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ছাইদুল হক তালুকদার গত ১৬ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. গোলাম রবের ছেলে মো. রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে কাঞ্চনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বধলা উপজেলার মাথাং ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৯০ সালে আলীম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সনদ চাকরিতে সংযুক্ত করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি প্রত্যয়নপত্র দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, মো. রুহুল আমিন ১৯৯০ সালের আলীম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এ কারণে তার আলীম পাসের সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, রুহুল আমিন ‘মুসলিম এইড মিশন ওয়ার্ল্ডবুরু’ নামের একটি ইসলামি সংস্থার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ২০/২২ জন বিধবা, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে খালিয়াজুড়ী উপজেলার শফিকুল মিয়া, মজনু মিয়া, মিন্টু মিয়া, চায়না আক্তার, রাবিয়া আক্তার, সুফলা আক্তার, ময়না আক্তার, মঞ্জুরা আক্তার ও মদন উপজেলার ছাইদুল হক তালুকদার রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার সনদ ভুয়া—এ কথা সঠিক নয়। আমার আলীম পাসের সনদপত্র ঠিক আছে।’ তবে ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আজম বলেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভুক্তভোগীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সনদপত্রের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

