Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে ছড়িয়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত ৫৪

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত আগস্ট মাস থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত উপজেলায় মোট ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত গুরুতর অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারাও সুস্থ হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগরের রোহান, হোসেনাবাদের আফরিন, সাদিপুরের মিনহাজ, আমদহের সুমন, গোয়ালগ্রামের রবিউল, রিফায়েতপুরের আসমান ও ইব্রাহিম এবং পচামাদিয়ার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।

দৌলতপুরের মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী (৪০) অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ তার হাতে একটি ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও ঘা ভালো হচ্ছিল না। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। এরপর এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত এলাকার সেলিম হোসেন (৩৩) জানান, গরুর মাংস কাটার সময় তার হাতে কেটে যায়। পরে ওই স্থানে ঘা তৈরি হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।

অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়। আক্রান্ত গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার মাংস কাটা, চামড়া বা দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার সময় জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এসব পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আক্রান্ত পশুর দেহাবশেষ খালি হাতে নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কোনো পশু অসুস্থ হলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানোর পাশাপাশি শরীরে সন্দেহজনক ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই করা কিংবা এসব পশুর মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অসুস্থ বা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, গত আগস্ট মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৌলতপুরে মোট ৫৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তারাও সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।