কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছে শ্রেণিকক্ষে, কোথাও আবার ছাদের আস্তর খসে পড়ছে। দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন পাঠ নিতে হচ্ছে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার দোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
১৯৯৯ সালে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং অনেক জায়গার প্লাস্টার ও আস্তর খসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। এতে বই-খাতা ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুই শিফটে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে বসেই তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা ঘোষ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে তিনি বাগেরহাট-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাতের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রতিকার বা সুরাহা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যেকোনো সময় জরাজীর্ণ ভবনের অংশবিশেষ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তারা অবিলম্বে বিদ্যালয় ভবনটি পরিদর্শন করে ঝুঁকি নিরূপণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

