গিয়াস উদ্দিন মিয়া
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের পর ঝুমুরকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘ঢাকাস্থ প্রজন্ম আগৈলঝাড়া’র উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ঝুমুরের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা জানান, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে ঝুমুর খানম সেতু বিএম কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে পরিবারের সম্মতিতে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লার শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কুয়েতপ্রবাসী স্বামী শাহারিয়া কাজী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কারণে ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তাঁকে মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ঝুমুর বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খানের বরাত দিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন (৪ অক্টোবর) রাতে শাহারিয়া ভিডিও কলের মাধ্যমে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিষপান করে মারা যেতে বলেন। এরপর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরিবারের অজান্তে ঝুমুর বিষপান করেন।
পরে তাঁকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৫ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার রাতে জানাজা শেষে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

