কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
তীব্র নদীভাঙনে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর বড়দিয়া বাজার আবারও বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিক ভাঙনে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশের ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকার প্রায় ৪০ হাত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় ৪-৫টি চায়ের দোকান ও দুটি গুদামঘর নদীতে চলে যায়। পরদিন খেয়াঘাট এলাকা পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি আরও তিন-চারটি গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে ১২ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙনে বড়দিয়া বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধ করা হলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় ঐতিহ্যবাহী এ নদীবন্দর। সম্প্রতি বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশ থেকে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানববন্ধন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, তখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই বাজারের দোকানপাটই তাঁদের অনেকের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে তাঁদের। বাজারটিতে রয়েছে বহুতল ভবন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন এনজিও, একটি কলেজসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাজারটি বিলীন হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আশপাশের হাজারো মানুষও ভোগান্তিতে পড়বেন।
নড়াগাতী থানা বিএনপির সভাপতি খান মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে নদীভাঙনের বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ঢাকায় রয়েছেন। শিগগিরই এলাকায় এসে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তবে ১২ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ভাঙনকবলিত বড়দিয়া বাজার পরিদর্শনে আসেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বড়দিয়া বাজার রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এ নদীবন্দরটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

