যশোর প্রতিনিধি
যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছেই না। চলতি বছরের ১০ মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ সময়ে মারা গেছেন দুজন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০০ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সাতজন রোগী ভর্তি হয়েছেন শার্শা উপজেলায়। এ ছাড়া অভয়নগর ও বাঘারপাড়ায় চারজন করে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং চৌগাছা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও মনিরামপুরে একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে সরকারি হাসপাতালে ২১ জন রোগী ভর্তি হলেও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা শূন্য।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়নগরে ৭০২ জন, বাঘারপাড়ায় ১৬৬ জন, চৌগাছায় ৩৫ জন, ঝিকরগাছায় ৬৪ জন, কেশবপুরে ২০৯ জন, মনিরামপুরে ১২২ জন, শার্শায় ১৬৬ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩০ জনে।
এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৬৯০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০০ জন। এ ছাড়া ৩৮ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুজন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

