বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনার বেতাগীতে জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি ও অ্যাডভোকেসি বিষয়ে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বেতাগী উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। জাগো ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে সহায়তা করছে কিংডম অব দ্য নেদারল্যান্ডস।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, বেতাগী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবদুস সালাম সিদ্দিকী, ইজওয়ার পরিচালক আসাদুল ইসলাম চিনু, সুজনের সভাপতি সাদুল ইসলাম মন্টু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মহাসিন খান, নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মো. শামীম সিকদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মামুন ও বেতাগী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন।
এ সময় বক্তব্য দেন গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি সোহেল মীর, পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম মান্না, সহকারী পরিচালক সাইফুল হোসেন রিয়াজ কাজী, ইসমাত মেহজাবিন বিন্তি, সৌরভ জমাদ্দার ও গোলাম মর্তুজা ইমনসহ অন্যরা। সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় পরিবার ও সমাজে প্রচলিত জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য, নারী ও কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।
আয়োজকরা জানান, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের লক্ষ্য তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেন্ডারসমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

