যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেলের হর্ন ও সাইলেন্সার পরিবর্তন করে বিকট শব্দ সৃষ্টি এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচলের অভিযোগ উঠেছে উঠতি বয়সী কিছু যুবকের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে রাতের বেলায় আকস্মিক উচ্চশব্দে আতঙ্কিত হচ্ছেন পথচারী, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এতে শব্দদূষণের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
সরেজমিনে জানা গেছে, শহরের মুজিব সড়ক, আলী হোসেন মনি সড়ক, রেল রোড, আশ্রম রোড, মণিহার, ধর্মতলা, চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি, হাইকোর্ট মোড়, বেজপাড়া, খুলনা রোড ও নড়াইল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ও পরিবর্তিত সাইলেন্সারযুক্ত মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছেন কিছু যুবক। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। বিশেষ করে রাতে এসব মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
মুজিব সড়কে সার্কিট হাউসের পাশে চায়ের দোকান চালান ইউনুস আলী। তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় কিছু উঠতি বয়সী যুবক মোটরসাইকেলে বিকট শব্দ করে হর্ন বাজিয়ে যায়। হঠাৎ এমন শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
রেল রোডের মুদি ব্যবসায়ী সলেমান হোসেন বলেন, ‘রাতে দোকানের সামনে দিয়ে কিছু যুবক বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যায়। তাদের গতি থাকে বেপরোয়া। এই শব্দে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না নিলে এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’
আলী হোসেন মনি সড়কে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন কলেজশিক্ষক রহমত আলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিছুদিন ধরে এই সড়কে কয়েকজন যুবক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বিকট শব্দে হর্ন বাজাচ্ছে। হঠাৎ এমন শব্দ শুনলে ভয় পেয়ে যাই। আমার মতো আরও অনেকে আতঙ্কিত হন। বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে নজর দেওয়া উচিত।’
যশোরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন সড়কে কিছু যুবক মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করে উচ্চশব্দ সৃষ্টি করছে। তাঁদের অনেককে হেলমেট ব্যবহার করতেও দেখা যায় না। উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন, পরিবর্তিত সাইলেন্সার ও অননুমোদিত এলইডি লাইটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ জরুরি। পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এসব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল বলেন, উচ্চশব্দে গাড়ি চালানো ও হর্ন বাজানোর কারণে শব্দদূষণ হয়। এতে সাধারণ মানুষ বিরক্তির শিকার হন। হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আকস্মিক তীব্র শব্দ শারীরিক অস্বস্তি ও চাপ বাড়াতে পারে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
যশোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক জমির হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলে উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ও অননুমোদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেউ এসব ব্যবহার করলে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
যশোর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবর্তিত সাইলেন্সারযুক্ত মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। উঠতি বয়সী যুবকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। কখনো কখনো মোটরসাইকেল জব্দও করা হচ্ছে।’
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো ও বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো সড়কে জনদুর্ভোগ ও ঝুঁকি তৈরি করে। শুধু উঠতি বয়সী যুবক নয়, যে কেউ আইন অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাতের বেলায় বিভিন্ন সড়কে বিকট শব্দে হর্ন বাজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

