ফরিদপুর প্রতিনিধি
পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর।
ভোলা জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের মার্চে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলামের পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারক চক্রটি। পরে ওই নম্বর থেকে ফোন করে কম দামে ৩৩ টন চাল সরবরাহের প্রলোভন দেখানো হয়। পরিচিত ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন আসায় প্রস্তাবটি বিশ্বাস করেন রশিদুল। এরপর বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠান তিনি।
টাকা পাঠানোর পর চাল না পেয়ে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন ওই ব্যবসায়ী। পরে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। একপর্যায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় ভোলা থেকে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। কখনো জিনের বাদশা, কখনো তান্ত্রিক বা কবিরাজ পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে ভয়ভীতি দেখানো, রোগ নিরাময়ের আশ্বাস দেওয়া এবং মোবাইল নম্বর ক্লোন করে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখানো ছিল তাদের প্রতারণার কৌশল।
এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্রস্তাবে বিশ্বাস করা যাবে না। জিনের বাদশা কিংবা তান্ত্রিকের নামে প্রচারিত অলৌকিক ক্ষমতার কথায় কান না দিয়ে যেকোনো লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।

