নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক ভবনে ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ৫০ লাখ এবং পর্যায়ক্রমে এক কোটি ইয়াবা বড়ি উৎপাদন করা। তবে উৎপাদন শুরুর আগেই পুলিশের অভিযানে কারখানাটির সন্ধান মেলে। এ সময় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান, কাঁচামাল, পরীক্ষাগার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্মাণাধীন চারতলা একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় কারখানাটি স্থাপনের কাজ চলছিল। ভবনটি টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে ওই বাড়ির ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে স্থাপন করা পরীক্ষাগার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানান, তিনি কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল, অটোমোবাইল) পাস করেছেন। প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। পরে ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এ বিষয়ে জানার চেষ্টা করেন।
ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি বলেছেন, টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় ইয়াবার ব্যাপক চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশায় নিজেদের বাড়িতে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রথমে টঙ্গীর মাজার বস্তি, ব্যাংকমাঠ বস্তি, কেরানিরটেক বস্তি, টঙ্গী নদীবন্দর ও আশপাশের মাদকবাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। উৎপাদন শুরুর আগেই স্থানীয় ক্রেতাদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের তরল ও গুঁড়া রাসায়নিক পদার্থ, কাঁচামাল, কাচের বোতল, মাপার যন্ত্র, ফিল্টারেশন ও ভ্যাকুয়াম পাম্প, হিটিং সেটআপ, পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম এবং রাসায়নিক পরিমাপের যন্ত্র জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ইয়াবা ট্যাবলেট শুকানোর কাজে ব্যবহৃত ফিল্টার পেপার, রাসায়নিক সংরক্ষণের উপকরণ, পরীক্ষার কাগজ এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের নাম ও পরিমাপসংক্রান্ত তথ্য লেখা একটি খাতাও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেটও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার নাজমুল ইসলাম বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার এএসআই নূরে আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার বাপ্পিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, কারখানাটি চালু হলে গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারত। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

