Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৬ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশ পরিচয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, তিনজনকে ক্যাম্পাসে এনে সমঝোতা

কুবি প্রতিনিধি
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সন্দেহের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তাঁর বন্ধু অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা তা না দেখিয়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

পরে ওই তিনজনকে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাঁদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। পরে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হলে পরিচয় জানা যায়, তাঁদের একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, অপরজন কনস্টেবল হানিফ এবং তৃতীয় ব্যক্তি পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাঁদের পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ তিনজন এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। তাঁদের মধ্যে একজন অর্পের শার্টের কলার ধরে বলেন, “আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।” বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তাঁরা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি, তা জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তাঁরা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাঁদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

তবে এএসআই শ্যামল সাহা বলেন, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান এবং ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাঁদের পরিচয় দিতে চাননি। তাঁদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তাঁরা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাঁদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে।’

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন যদি শিক্ষার্থীরা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিলেও বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়ে যেত। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।