যশোর প্রতিনিধি
যশোরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের নিবন্ধনভুক্ত ৬৩টি বেসরকারি পাঠাগারের বেশিরভাগই বাস্তবে অস্তিত্বহীন। বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এসব পাঠাগারের অনেকগুলোকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে। অথচ সরকারি কাগজে তাদের সক্রিয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি কিছু কিছু পাঠাগার নিয়মিত অনুদানও পাচ্ছে।
শার্শা উপজেলার পাকশিয়া বাজারে তথাকথিত ‘চেতনা পাঠাগার’-এর কথা সরকারি তালিকায় থাকলেও স্থানীয়রা এর কোনো খোঁজ দিতে পারেননি। এমনকি ডিহি ইউনিয়ন পাবলিক লাইব্রেরির যুগ্ম সম্পাদক আনিছুর রহমান ও সাংবাদিক নেতা সাজেদ রহমান বকুলও লাইব্রেরিটির নাম কখনো শোনেননি।
শুধু চেতনা পাঠাগারই নয়—যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার ‘অধ্যাপিকা শামসুন নাহার গণগ্রন্থাগার’, ষষ্ঠীতলাস্থ ‘সাজ লাইব্রেরি’, নীল রতন ধর রোডের ‘ছায়া পাঠাগার’, ঝিকরগাছার ‘কপোতাক্ষ বেতার শ্রোতা সংঘ ও পাঠাগার’ এবং কেশবপুরের ‘বনফুল গণসংযোগ লাইব্রেরি’—সবগুলোর ক্ষেত্রেই অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত বন্ধ কিংবা আদৌ চালু হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব পাঠাগার কখনো বন্ধ ছিল, কখনো চালুই করা হয়নি, কখনোবা শুধুই কাগজে-কলমে দেখিয়ে অনুদান সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন লাইব্রেরি স্থাপন করে ‘তদবির ও সুপারিশের ঝামেলায়’ তা আর চালাতে পারেননি।
বাঘারপাড়ার ‘অরূপ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরি’ কিছুটা সক্রিয় থাকলেও সেটিও খোলা থাকে অনিয়মিতভাবে। অন্যান্য পাঠাগারের মত এখানেও অনুদান সংগ্রহে রয়েছে নানা অভিযোগ।
এ নিয়ে যশোরের বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমী ও নাগরিকদের উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলছেন, “এভাবে লাইব্রেরিকে ব্যবসার খাত বানিয়ে ফেললে পাঠক তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
তবে সরকারি গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। যশোর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মমতাজ খাতুন বলেন, “৬৩টি পাঠাগার আমাদের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত রয়েছে। তবে যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর তদন্ত করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন বাতিল করা হবে।”
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে যেখানে লাইব্রেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার, সেখানে কাগজে-কলমে লাইব্রেরির অস্তিত্ব রেখে অনুদান তোলার এই চিত্র শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারই নয়, বইপ্রেমী জাতি গড়ার স্বপ্নকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

