রুহুল আমিন, যশোর প্রতিনিধি
টানা বর্ষণে যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ এলাকার ৩০টির বেশি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভবদহ অঞ্চল মূলত যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী। তবে নদীগুলোর নাব্যতা হারানোয় পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে না, ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
যশোর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ৫১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে জুন মাসে বৃষ্টিপাত ছিল ২৯৯ মিলিমিটার। অতিবৃষ্টির ফলে ভবদহ অঞ্চলের ৫২টি বিল প্লাবিত হয়ে আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে।
মনিরামপুর উপজেলার লখাইডাঙ্গা গ্রামের গৃহবধূ জয়শ্রী মণ্ডল বলেন, “উঠোনে হাঁটুসমান পানি। আরও বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢুকে যাবে।” একই পরিস্থিতি বাজে কুলটিয়ার লাভলী বিশ্বাস, ডহর মশিয়াহাটীর দিলীপ বিশ্বাস ও সুভাষ বিশ্বাসের বাড়িতেও। কোথাও টিউবওয়েল ও বাথরুম পানির নিচে চলে গেছে, কোথাও উঠোনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হচ্ছে।
ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, “প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ২১-ভেন্ট স্লুইসগেটের সব গেট না খুলে শুধু ছয়টি গেট খোলা রাখা হয়েছে, যার ফলে দ্রুত পানি নামতে পারছে না। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে হলে টিআরএম (জোয়ারাধার) পদ্ধতি চালু করতে হবে।”
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের সময় বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র ব্যবহার করে এবং ভাটির সময় গেট খুলে পানি নামানো হচ্ছে। আগামী আগস্ট মাস থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছয়টি নদী খননের কাজ শুরু হবে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এছাড়া আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে ৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নদী খননের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।”
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি নদী ও খালের অব্যবস্থাপনার কারণে ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘ হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

