রাসেল আহমেদ, খুলনা
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চরম জনবল সংকটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি, কৃষি, পরিবার পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ প্রায় প্রতিটি বিভাগেই বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য পড়ে আছে। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ; বাড়ছে হয়রানি ও ভোগান্তি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীসহ মোট ৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। অল্প কিছু স্টাফ দিয়ে প্রতিদিনের চিকিৎসা সেবা চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে।
ভূমি অফিসের পরিস্থিতিও প্রায় একই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছাড়া অন্য কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। দীর্ঘদিন ধরে চেইনম্যান, কানুনগো, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাসহ ১৩টি পদ শূন্য থাকায় জমি সংক্রান্ত কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরে মাত্র একজন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পুরো কার্যক্রম। মাঠপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা না থাকায় কার্যক্রম হয়ে পড়েছে অকার্যকর। পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ২৮টি শূন্য পদ নিয়ে কার্যক্রম চলছে ধীর গতিতে।
হিসাব রক্ষণ অফিসে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন একজন কর্মকর্তা বসেন। জুনিয়র অডিটরসহ আরও দুটি পদ শূন্য থাকায় রাজস্ব সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রায় অচল।
শিক্ষা খাতেও সংকট প্রকট। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় স্কুল তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, উপজেলা প্রকৌশলী, খাদ্য অফিস, যুব উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্য অফিসসহ অধিকাংশ দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী, নলকূপ মেকানিক, ক্রেডিট সুপারভাইজার, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারী, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা পদগুলো শূন্য রয়েছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ শেখ বলেন, “এক কাজ নিয়ে তিনবার অফিসে যেতে হয়। অথচ কেউ থাকেন না, শুধু দপ্তর ঘুরে ঘুরেই দিন শেষ।” আরেক ভুক্তভোগী সোহেল তাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি অফিস এখন দুর্ভোগের নাম। সাধারণ মানুষের জন্য কেউ ভাবছে না।”
এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, “জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকেও বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশাবাদী, শিগগিরই কিছু পদে নিয়োগ আসবে।”

