Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ৫ আগস্ট ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, হস্তান্তরের আগেই রাস্তা ধ’স

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
আগস্ট ৫, ২০২৫ ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা এলাকায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক হস্তান্তরের আগেই ধসে পড়েছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রায় ৩৫০ ফুট অংশে ধস নামায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ঘাটভোগ ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা বাজার পুলিশ ক্যাম্প থেকে চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৫ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করে। ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৫২ লাখ ২৮ হাজার ১১৫ টাকা। কার্যাদেশ পায় মেসার্স জারা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যারা পরবর্তীতে কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট দেয় এসএম সালাউদ্দিন ও ওবায়দুল নামে দুই ঠিকাদারকে।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শেষ হলেও নির্মাণাধীন অবস্থাতেই সড়কে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ চালিয়ে যায়। কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে থাকা পুকুরের দিকে প্রায় ২০ ফুট এলাকা পানিতে ধসে যায়। এলাকাবাসীর মতে, গাইড ওয়াল না থাকায় পানি চাপ সহ্য করতে না পেরে এ ধসের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ভিত্তি দুর্বল ছিল। রাস্তার গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে এবং পাইলিংয়ে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বর্ষাকালে কাজ করায় এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় নির্মাণের শুরু থেকেই ফাটল দেখা দেয়।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কাজ চলাকালে তারা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হতে দেখেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে আজ তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সাব-কন্ট্রাক্টর এসএম সালাউদ্দিন দাবি করেছেন, তারা প্রকৌশলীদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন এবং অতিবৃষ্টির কারণেই সড়কের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর মতে, এস্টিমেটে গাইড ওয়াল প্রয়োজনের তুলনায় কম রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শোভন সরকার জানিয়েছেন, ঠিকাদারকে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়নি। এক বছরের মধ্যে ক্ষতি হলে ঠিকাদার পুনরায় কাজ করতে বাধ্য থাকবেন।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রিকতা জানিয়েছেন, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নির্মিত এই সড়ক ধসে যাওয়ায় একদিকে সরকারের অর্থ অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে। তারা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।