জি. এম. মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মানিকখালী ব্রিজ থেকে বড়দল পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সড়কজুড়ে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তে যানবাহন চলাচল হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
ফকরাবাদ গার্লস স্কুল সংলগ্ন রাস্তা থেকে শুরু করে জামালনগর ফুলতলা, পাওয়ার হাউস ও বুড়িয়া হাসপাতালের সামনের অংশে ইট বসানো ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রায় শতাধিক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, নসিমন, করিমন, যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করে।
বড়দল ইউপি প্রশাসক আকতার ফারুক বিল্লাহ জানান, “মানুষের ভোগান্তি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে এই রাস্তাটি পূর্ণসংস্কার প্রয়োজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসচালক আকরাম হোসেন বলেন, “গর্তে ইট খোয়া ঢুকে চাকার স্লিপে যাত্রীরা আঘাত পাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি।”
ফকরাবাদ গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনাতন বৈরাগী জানান, “স্কুলের সামনে বড় গর্তে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। কিছুদিন আগে দায়সারা সংস্কার করলেও তা টেকেনি। আমাদের বিদ্যালয়ের ১৩২ শিক্ষার্থীর নিরাপদ চলাচল এখন হুমকির মুখে।”
ফকরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিতা মণ্ডল বলেন, “স্কুলের প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
বড়দল কলেজিয়েট স্কুলের প্রভাষক মানিক মণ্ডল বলেন, “প্রতিদিন রাস্তার কাদা পানিতে ভিজে কলেজে যেতে হয়। এমন অবস্থায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, “কিছুদিন আগে রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছিল। আবার খারাপ হয়েছে শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত পুটিং করে চলাচল উপযোগী করা হবে।”

