রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
চাঁদাবাজি, রেলওয়ের জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত খুলনা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর)খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ১২ নম্বর সড়কের ২০০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান পরিচালিত বাড়িটি খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আসাদুর রহমানের মালিকানাধীন। এ বিষয়ে আসাদুর রহমান বলেন, “ফরিদ মোল্লা আমার আত্মীয় নন। কেউ ‘মামা’ বললেই আত্মীয় হয়ে যায় না। পুলিশ কেন আমার বাসায় এসেছে, তা বুঝতে পারছি না।”
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন ফরিদ মোল্লার নিজ বাড়িসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। কিন্তু প্রতিবারই তিনি পুলিশের নজর এড়িয়ে গা ঢাকা দেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের পর আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের ঘাট এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন মোল্লা ফরিদ। এরপর খুলনা নদীবন্দর, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট এবং রেলওয়ের জমি দখল করে একাধিক মার্কেট গড়ে তোলেন তিনি।
এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে কেএমপি বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ৩(২) ধারায় ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে এক মাসের আটকাদেশ চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে। পরবর্তীতে প্রশাসন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখানে অপরাধই মূল বিবেচ্য, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়।”

