আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তারা।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নিহত নাসরিন বেগমের মামা মো. সেলিম শেখ। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় ১৮ বছর আগে বানা ইউনিয়নের উথলি গ্রামের মোশারফ মোল্যার মেয়ে নাসরিন বেগমের সঙ্গে সদর ইউনিয়নের ধলাইরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সামছুল শেখের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী জাবেদ শেখ ওরফে বিশুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রবাসে অবস্থানকালে জাবেদ শেখ তার স্ত্রীর চাচাতো খালা সুরাইয়া খানম ওরফে মলির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জাবেদ শেখ মলির সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এসব ঘটনার কারণে নাসরিন বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মোবাইল ফোনে এ বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অভিমান করে নাসরিন বেগম ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. সেলিম শেখ বাদী হয়ে নাসরিনের স্বামী জাবেদ শেখ ওরফে বিশুসহ শ্বশুর, দেবর ও পরিবারের আরও সদস্যসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নম্বর আমলী আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজ উদ্দীন বলেন, “দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারা অনুযায়ী কেউ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিলে এবং সেই প্ররোচনার কারণে আত্মহত্যা সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হন। এ মামলায় বাদীপক্ষ আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

