Nabadhara
ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট, সবাই ঝুঁকছে মাদ্রাসা শিক্ষায়

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল )প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল )প্রতিনিধি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। অপরদিকে, ইসলামি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নূরানী মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উপবৃত্তির মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় শিক্ষা খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে মুসলিম অভিভাবকদের একটি বড় অংশ ইসলামি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সন্তানদেরকে স্থানীয় নূরানী মাদ্রাসা ও মক্তবে ভর্তি করাচ্ছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের কিছু স্কুলে তুলনামূলকভাবে শিক্ষার্থী সংখ্যা কিছুটা বেশি থাকলেও মফস্বলের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, সরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান প্রত্যাশিত নয়, আর শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও অনেক সময় আন্তরিকতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন,আমার সন্তান আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ত। কিন্তু পড়াশোনার মান ভালো না হওয়ায় এখন আমি তাকে নূরানী মাদ্রাসায় দিয়েছি। ওখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকরা অনেক যত্নবান।”

অন্য একজন বলেন, সরকারি স্কুলে শিক্ষকরা অনেকেই সময়মতো ক্লাসে আসেন না। তারা অধিকাংশই শহরে থাকেন, ফলে দেরিতে আসেন, আবার তাড়াতাড়ি চলে যান।”

উপজেলার কয়েকজন বিদ্যালয় প্রধান জানান, গ্রামের অনেক পরিবার জীবিকার খোঁজে শহরে চলে যাচ্ছেন। শহরে আবাসন, চিকিৎসা ও শিক্ষার সহজলভ্যতা থাকায় সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই তারা সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে মোট ২৭৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিগত তিন বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনা করলে চিত্রটি পরিষ্কার হ গত তিন বছরে দেখা যায় ২০২৩ সালে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৩১৩৫৮ জন যা বেড়ে ২০২৪ সালে হয় ৩৫০৩০ জন কিন্তু আবার দেখা যায় ২০২৫ সালে তা কমে ২৯৭৫২ জনে আসে এক বছরেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫ হাজারের ও বেশি। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিভাবকদের মতে, নূরানী মাদ্রাসাগুলোতে মাসিক বেতন দিয়ে পড়াতে হলেও, সেখানে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও যত্নের পরিবেশ থাকায় তারা সন্তুষ্ট। যদিও এসব মাদ্রাসায় সরকারি সহায়তা নেই, তবুও শিক্ষার গুণগত মান ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রাপ্তির সুযোগ তাদের আকৃষ্ট করছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার মান ভালো না — এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে এটি সত্য, মানুষের শহরমুখী প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি, আমাদের দেশের প্রায় ৯০% মানুষ মুসলমান হওয়ায় ইসলামি শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ স্বাভাবিক। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল থাকায় কিছু শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেন না, যা শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলে।

শিক্ষা বিশ্লেষক ও সচেতন অভিভাবকরা মনে করেন, সরকারি বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানের মান বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় শিক্ষাকে সম্পূরকভাবে অন্তর্ভুক্ত করলেই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নচেৎ নূরানী মাদ্রাসার বিকল্পে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে — এমন আশঙ্কাই এখন প্রকট হয়ে উঠছে

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।