নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানাধীন শ্মশানঘাট এলাকায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্মাণাধীন একটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও তদন্তে জানা গেছে, এটি কোনো পরিকল্পিত বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা নয়। এটি কেবল কিশোরদের ছেলেমানুষি ও আবেগপ্রসূত আচরণের ফল।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় রাকিব হাসান পাটোয়ারী (১৩) ও নাজমুল ইসলাম (১২) নামে দুই কিশোরকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব জানান, তারা প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে কারিগরদের খারাপ ব্যবহার ও তাড়ানো হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে।
গাজীপুর মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাপ্পি দে বলেন, “এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়, শুধুমাত্র কিশোরদের ছেলেমানুষি। এতে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ নেই। আমরা এটিকে শিক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছি যাতে ভবিষ্যতে সবাই আরও সতর্ক হয়।”
ঘটনার পরপরই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রবিউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং যথাযথ তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, “ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপূর্ণ নয়, এটি কিশোরদের আবেগপ্রসূত ছেলেমানুষি। গাজীপুরে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজমান রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে। পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।”
নির্মাণাধীন প্রতিমাটি অগ্রগামী যুব সংঘের আয়োজনে কাপড় দিয়ে ঘেরা থাকলেও সেখানে পাহারা বা সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

