কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে জ্বিনের চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণার রমরমা ব্যবসা। টিউমার, হাতভাঙ্গা থেকে শুরু করে জটিল নানা রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ঝাড়ফুক, তেল পড়া ও পানি পড়ার মাধ্যমে। এমনকি জ্বিন দিয়ে রোগীর অপারেশন করার কথাও বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিত জ্বিন হাসিলকারী জাহেরা ওরফে বানেছা পরী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাবার বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন এই ভণ্ড চিকিৎসালয়। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে প্রায় অর্ধশত রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সিরিয়ালের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩০ টাকা। এরপর রোগের ধরণ অনুযায়ী ঝাড়ফুক, তেল পড়া, পানি পড়া এবং কথিত জ্বিনের মাধ্যমে অপারেশনের নামে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রতি মাসে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। এ কাজে জাহেরাকে সহযোগিতা করেন তার বাবা আবুল হোসেন এবং বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলাম।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা হাতভাঙ্গা রোগী মাসুম জানান, লোকমুখে শুনেই তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। আর দুপচাচিয়া থেকে আসা মঞ্জিলা নামের এক টিউমার রোগী বলেন, “লোকজন বললেই এসেছি, দেখি কি হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রসুল বলেন, “এটা ইসলাম বিরোধী প্রতারণামূলক কাজ। আমরা চাই প্রশাসন এ ব্যবসা বন্ধ করুক।” গ্রামের মুরুব্বি মাহতাব আলী প্রামাণিক বলেন, “এটা প্রতারণা, জায়েজ নয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।”
গ্রামবাসীরা জানান, সাংবাদিকরা রিপোর্ট করতে চাইলে নানা সময় জাহেরার পরিবারের লোকজন বাধা দেন, কখনও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চান। এ কারণে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজ আলম বলেন, “ঝাড়ফুক কিংবা জ্বিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক এবং বিজ্ঞানসম্মত নয়। কেবল রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকরাই চিকিৎসা দিতে পারেন।”
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার জাহান বলেন, “নয়াপাড়ায় জ্বিনের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে প্রতারণা চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। মানুষকে বিভ্রান্ত করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

