রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রবেশদ্বার বাকলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে দেড় কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ খুলনা জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আশিকুল ইসলাম, যিনি খুলনা জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (৬ মে) বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থান নিয়ে কক্সবাজার থেকে আসা যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে আশিকুল ইসলামকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি কক্সবাজার থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদক সংগ্রহ করে খুলনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়া মঙ্গলবার নিয়মিত ডিউটি শেষ করে তিনি দপ্তরের কাউকে না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলেও জানা গেছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “গ্রেপ্তার আশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
গ্রেপ্তার আশিকুল ইসলাম গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মুন্সীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকলেও, মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র বলেন, “তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকায় ঘটনাটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি।

