আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
মায়ের মৃত্যু শোক ও নানা সমস্যার জটিলতার মধ্যে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদ্য সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম। রবিবার ভোররাতে ঢাকায় হাইকোর্টে যাওয়ার পথে স্ট্রোকজনিত কারণে তিনি মারা যান বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে আবুল হাসান জানান, রাজনৈতিক মামলার জটিলতায় তার পিতা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। গত ৪ মে দাদীর মৃত্যুর খবরে তিনি বাড়ি ফেরেন। শনিবার ৯ মে জামিন নেওয়ার জন্য ঢাকা হাইকোর্টে যাচ্ছিলেন। ঢাকার শ্যামলী থেকে রবিবার ভোরে হাইকোর্টে যাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসান আরও জানান, কুরবানী ঈদের আগে তার পিতা বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। এজন্য দ্রুত জামিনের জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যু তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অবশেষে সেই গভীর শোকই যেন তাকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেল।
নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন দেবহাটা উপজেলার জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একজন মানবিক মানুষ হিসেবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তার মৃত্যুতে দেবহাটাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ পৌঁছালে বিকালে জানাজা শেষে তাকে কুলিয়া ইউনিয়নের গোবরাখালী গ্রামের বাড়িতে মায়ের পাশে দাফন করা হবে।

