অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিমুল মৃধা নামে এক যুবক।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিমুল মৃধা।
তিনি জানান, টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিমুল দীর্ঘদিন ধরে পায়রা বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে একই এলাকার নয়া মিয়ার মেয়ে নুরুন্নাহার ওরফে কেয়া মনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।
শিমুলের অভিযোগ, বিয়ের পর স্ত্রীকে সুখে রাখতে ১০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার দেন এবং স্ত্রীর পরিবারের নানা প্রয়োজনে লাখ লাখ টাকা সহায়তা করেন। তবে শুরু থেকেই তার স্ত্রী ও স্বজনরা পরিকল্পিতভাবে তার অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে ট্রাক্টর কেনা, বিয়ের খরচ ও গোয়ালঘর নির্মাণের কথা বলে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয়া হয়। এমনকি নিজের অর্থে স্ত্রীর নামে জমিও কিনে দেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ মার্চ স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা দা, লাঠি ও ইট দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন।
শিমুল দাবি করেন, তালাকের পর তার সাবেক স্ত্রী ও স্বজনরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ২২ এপ্রিল রাতে তারা বসতঘরের তালা ভেঙে নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে দখলে নেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, রোববার কলাপাড়া থানার এক এসআই তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘরে উঠিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বললে ওসি জানান, তালাক এখনো কার্যকর হয়নি। তবে একই ছাদের নিচে বসবাস নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ ঘটনায় দখলকৃত ফ্ল্যাট উদ্ধার, লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান শিমুল মৃধা।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুন্নাহার ওরফে কেয়া মনি বলেন, তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতেন। গত ২২ এপ্রিল তাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাসায় ফিরে দেখেন তার মালামাল লুট করা হয়েছে। পুলিশের সহায়তায় তিনি পুনরায় সন্তানদের নিয়ে ঘরে ওঠেন। তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “পুলিশ কাউকে জোর করে ঘরে উঠিয়ে দেয়নি। ওই নারী মৌখিক অভিযোগ দিলে তার জন্য আলাদা ঘর থাকায় সেখানে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া তাদের তিন সন্তান রয়েছে। আর ওই যুবকের তালাক এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি, কারণ তালাকের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়নি।”

